অনুশোচনা থেকেই কি তাজমহল?

তাজমহল পৃথিবীর  সপ্তার্চযের একটি। আমরা সবাই জানি, এটি মুমতাজের প্রতি  স্ম্রাট শাহজাহানের ভালবাসার নির্দশন। কিন্তু, আসলে তা নয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন মুমতাজের মৃত্যুর পর অনুশোচনা থেকেই শাহজাহান প্রায় দুই যুগ সময় নিয়ে মহলটি বানিয়েছেন বলে । গবেষণা থেকে কিছু তথ্য বেরিয়েছে যা এত দিনের ধারণাকে পালটে দিয়েছে।

চলুন, জেনে নিই  তথ্যগুলোঃ

taj-mahal
taj-mahal

১/  প্রথম যখন মুমতাজকে দেখেন সম্রাট শাহাজাহান, তখন তার  বয়স ছিলো ১৪। প্রথম দর্শনের এই প্রেম চলে পাঁচ বছর ধরে। তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকাকালীন সম্রাট অন্যত্র বিয়েও করেন। তবে মুমতাজের বয়স যখন ১৯, তখন তারা বিবাহ করেন।

 

২/  সম্রাট শাহাজাহান সর্বসাকুল্যে বিয়ে করেছেন ৭ টি। মুমতাজ মহল ছিলেন তাঁর চার নাম্বার স্ত্রী। (মতান্তরে তিন নাম্বার স্ত্রী)

৩/  মুমতাজ বেগমও ছিলেন বিবাহিত। কিন্তু তাঁর স্বামীকে সম্রাটের কাছে প্রাণ দিতে হয়েছিল । মুমতাজ মহলের স্বামীকে খুন করেছিলেন শাহাজাহান,  তাকে বিয়ে করার জন্য!

৪/ মুমতাজ মহল ১৪তম সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান।

৫/  মুমতাজের মৃত্যুর পর তাঁর বোনকে বিয়ে করে ফেললেন শাহাজাহান সম্রাট !

Mumtaz_Mahal_and_Shah_Jahan
Mumtaz_Mahal_and_Shah_Jahan

 

৬/ দ্যা টেল অব তাজ নামে ইংরেজিতে একটি নাটক লিখেন দিলীপ হিরো নামে এক লেখক। নাটকটির প্রিমিয়ার হয়েছিলো ইন্ডিয়াতেও। বিবিসিতে এই নাটক সম্পর্কিত একটি আর্টিক্যালে দেখানো হয় মুমতাজ বেগমের মৃত্যুর পেছনে সম্রাট শাহাজাহানের হাত থাকতে পারে!           

৭/ বিবিসির আর্টিক্যালে বলা হয়, মুমতাজ অসম্ভব ভালো দাবা খেলতে পারতেন। তাঁর রাজনৈতিক জ্ঞানও ছিল সমৃদ্ধ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিনি সম্রাটকে হার মানিয়ে দিতে পারতেন, বিশেষ করে দাবা খেলায় এবং দূরদর্শী চিন্তায়। অসংখ্য ডকুমেন্টে মুমতাজের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও রাজকার্যে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে।

৮/  সমালোচকরা কেউ কেউ বলেন, তাজমহল ভালবাসা থেকে নয়, অনুশোচনা থেকেও বানানো হতে পারে।

৯/  সে আমলে (১৬৩২-১৬৫৩) প্রায় ৩২ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হয়েছিলো তাজমহল বানাতে। আজকের দিনে হিসাব করতে গেলে প্রায় ১ হাজার ৬২ কোটি ৮৩ লাখ চার হাজার ৯৮ মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে এই তাজমহলের পেছনে।  

১০/  নদীর ওপারে কালো তাজমহল বানানোর কাজ শুরুও করেছিলেন, কিন্তু শেষ করার আগেই তাকে থামতে হয়েছিল। কারণ, তিনি নিজ পুত্র আওরঙ্গজেবের কাছে ক্ষমতাচ্যুত হন।

১১/  ভারতবর্ষে প্রচলিত আছে, সম্রাট শাহাজাহান তাজমহল নির্মানে যে শ্রমিকেরা শরিক হয়েছিলেন তাদের হাতের কবজি কেটে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ, তিনি চাননি পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো তাজমহল নির্মাণ হোক! ২২ হাজার শ্রমিক সাথে ১ হাজার হাতিও ছিল।


১২/  প্রফেসর পি.এন. অক যিনি ‘TajMahal: The True Story’ বইয়ের লেখক, তিনি অদ্ভুত কিছু তথ্য দেন। তিনি দাবী করেন যে তাজমহল বেগম মমতাজ মহলের সম্মানে নির্মিত প্রেমের সমাধিস্থল নয়; বরং এটা প্রাচীন দেবতা শিবের মন্দির। তিনি ইতিহাস ঘেঁটে জানতে পারেন, সম্রাট শাহজাহান অন্যায়ভাবে জয়পুরের মহারাজার (জয় সিং) কাছ থেকে এটি দখল করেন।

১৩/  নিউইয়র্কের এক আর্কিওলজিস্ট মারভিন মিলার। যিনি তাজমহলের দেয়ালের নমুনা পরীক্ষা করেছিলেন। তাতে যে কার্বন পাওয়া যায় তা সম্রাট শাহাজাহনের শাসনামলেরও ৩০০ বছরের পুরনো!

taj-mahal-2
taj-mahal-2

 

১৪/  আশ্চর্যের কথা হচ্ছে, প্রফেসর অক তাজমহলের নাম নিয়েও সন্দেহ পোষণ করেন। কারণ দুটো। এক. সে আমলে কোন মুসলিম দেশে কোন প্রাসাদ/ভবনের নাম “মহল” রাখার প্রচলন ছিল না। দুই. মুমতাজ মহল থেকেই তাজমহল নামটি এসেছে,এমনটা ধারণা সবার। কিন্তু মুমতাজ মহল কখনোই তাঁর আসল নামই ছিল না!

১৫/ তবুও মানুষ জানে, সম্রাট শাহাজাহান বিশাল প্রেমিক পুরুষ। প্রেমের জন্য কী তাঁর নিবেদন, কী তাঁর আত্মত্যাগ! কিন্তু, নিজ কন্যা জাহানারার প্রেমিককে তিনি পছন্দ করতেন না। জাহানারার প্রেমিক লুকিয়ে দেখা করতে এসে একদিন ধরা খান। শাহাজাহান মেয়ের চোখের সামনেই প্রেমিককে তক্তা দিয়ে দেয়ালের সাথে আটকে পেরেক গেঁথে গেঁথে খুন করেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যমুনার তীরে তখন তাজমহলের নির্মান কাজ চলছিল পুরোদমে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *