এত সিভি দিয়ে কি হবে?

বাংলাদেশে ২২ লাখ এর বেশি তরুন বেকার। নিষ্ক্রিয় হাজার হাজার তরুন। আজ যশোরে চালু হল যশোর হাই টেক পার্ক।

 

তরুনদের বলা হয়েছিলো চাকুরীর জন্য আবেদন করতে। তারো ঝাপিয়ে পড়েছেন। অজ্ঞাত সূত্রে জানা গেছে ১১,০০ চাকুরী পোস্টের জন্য আবেদন করেছেন প্রায় ২ লাখ চাকুরী প্রার্থী! চাকুরী পেলেও এরপর সিভি গুলো আর কাজে লাগছেনা কারোই।

যশোর হাই টেক পার্কের সিভি
যশোর হাই টেক পার্কের সিভি

 

এত আবেদনকারী, আর চাকুরী মাত্র ১১০০? কি হবে বাকি সিভি দিয়ে? এই দিকে এই জব ফেয়ারে যোগ দিয়েছিলেন মোটিভেশনাল স্পীকার সোলাইমান সুখন।

 

সিভি লিখতে কাগজ লাগে, কাগজ এর জন্য গাছ কাটতে হয়। তাই সিভি এক দিক দিয়ে পরিবেশের জন্য ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসছে। ২ লাখ সিভি এর জন্য আমাদের কাটতে হয়েছিলো শত শত গাছ।

 

যা হতে পারে এই সিভি দিয়ে _

 

১। মুড়ি শিল্পের বিকাশ। ঝাল মুড়ি কে না খায়? নাম না বলার শর্তে একজন জানিয়েছেন একদিন ঝাল মুড়ি না খেলে বউ এর সাথে তার বেদম ঝগড়া হচ্ছে। মন ও মনন ভালো রাখার জন্য তিনি প্রতিদিন ঝাল্মুড়ি খান। আমরা জানি ঝালমুড়ি খেতে লাগে ঠোঙ্গা, আর এই ঠোঙ্গা বানাতে লাগে কাগজ। পর্যাপ্ত পরিমান কাগজ ও ঠোঙা পেলে আমরা ঝাল মুড়ি শিল্পের বিকাশ ঘটাতে পারি। এই বিপুল পরিমান সিভি দিয়ে ঝাল মুড়ি সভ্যতা গড়ে তুলতে পারি আমরা।

 

২।

‘বাঁশের পরিবর্তে সিভি লাগান,

বাঁশের উপর চাপ কমান!’

 

সরকারী অনেক কাজে দেখেছি আমরা রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার হয় আমাদের দেশে। এত বাঁশের ব্যবহারে বাঁশ পড়তে পারে হুমকির মুখে। তাই সিভিগুলো চৌঙ্গার মত বানিয়ে আঠা দিয়ে জোড়া লাগিয়ে বাঁশের পরিবর্তে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই কাজ সঠিক ভাবে সম্পুর্ন করা গেলে দেশের বাঁশ কন্সট্রাকশনের কাজের জন্য অপ-ব্যবহারে যে হুমকির মুখে, তা থেকে রক্ষা পাবে।

যশোর হাই টেক পার্ক জব ফেয়ার
যশোর হাই টেক পার্ক জব ফেয়ারযশোর হাই টেক পার্ক জব ফেয়ার

 

৩। সিভির উলটো পাশ ব্যবহার। সিভি এক পাশ প্রিন্ট হলেও আমরা জানি উলটো পাশ রয়ে যায় সাদা। সেই পাশ ব্যবহার করে আমরা হতে পারি আরো অপ্টিমাইজড ন্যাশন! শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০০ পাতা করে সিভি বিতরন করা যাবে স্কুল গুলোতে। বাচ্চারা অন্য পাশে হাতের লেখা চর্চা করতে পারবে। এই চর্চার সাথে সাথে তারা কিভাবে সিভি লিখতে হয় তা সম্পর্কেও আইডিয়া পেয়ে যাবে। ছোট বয়স থেকেই নিজেকে ‘সিভি কিড’ রুপে গড়ে তুলতে পারবে প্রতিটি বাচ্চা!

যশোর হাই টেক পার্ক জব ফেয়ার

 

শেষ মেষঃ আসলে, একটা গুগল ফর্ম তৈরী করলে কিংবা একটা ওয়েব সাইট বানালেই সিভি এর সফট কপি বানানো যেত। আশা দেখিয়ে এতগুলো মানুষকে প্যারা না দিলেও হত। অন্য আর্টিকেল পড়তে বাম দিলে সোয়াইপ করুন।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *