ক্লোজ আপ ‘জ্বিনে ধরার গল্প’

সেদিন, আমি আর ও পাশাপাশি। দুজনে হাত ধরে হাটছি রাস্তার পাশ দিয়ে। চলছি নিরবে। সোডিয়াম আলোয় আলোকিত রাস্তায় আমারা হাটছি। রাত গভীর হতে থাকে।আশেপাশে মানুষজন কমতে থাকে।একসময় শুধু আমি আর সে। হঠাৎ সে আমার হাত ছেড়ে দিয়ে অন্ধকারের দিকে দৌড় দেয়।আমি তার পিছু পিছু ছুটে যাই।ডাক দেই তার নাম ধরে। কিন্তু সে দাঁড়ায় না।পিছনেও তাকায় না।অন্ধকার পেড়িয়ে আবার আলোয় আসলাম।কিন্তু কাউকে দেখলাম না। কিছু না বুঝে আস্তে আস্তে হাটতে হাটতে বাসায় চলে আসলাম। রাত তখন দুইটা।দারোয়ান ঘুমিয়ে আছে।তাকে ডেকে তুললাম।

 

 

সে বলল,”কি ভাইজান। একা একা কই গেছিলেন? ”
আমি,”একা কই?সাথে আমার বান্ধবী ছিল।তোমার সামনেই তো গেটে এসেছিল সে।তারপর আমি আর ও একসাথে হাটতে গেলাম।”
দারোয়ান, “কই আমি কাউরে দেখি নাই।আপনে নিজে কথা কইতেছিলেন।”
আমি,”কি বলতেছ তুমি?গত কয়েকদিন ধরে আমরা নিয়মিত হাটছি।আর তুমি তাকে দেখ নাই?”
“না।আমি কাউরে দেখি নাই।আর আপনে গত কয়েকদিন ধইরা আজব কাম কাজ করতেছেন।নিজে নিজে কথা কন,হাসেন,কারে আইসক্রিম কিন্না দেন।”
“তোমার মাথা ঠিক আছে?”
“জে।ঠিকই আছে।আপনের মাথা ঠিক নাই।”


একথা শুনে আমার মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো। আমি বেহুশ হয়ে গেলাম।যখন হুশ আসলো দেখি আমি হাসপাতালে শুয়ে আছি।মা পাশে বসে কান্না করছে।বাবা অস্থির ভাবে পাইচারি করছে।

আর পাশের বাসার আন্টি মাকে বলছে,”মনে হয় জ্বিনে আছর করেছে।ভাল হুজুর দেখান।”
মা,”আমরা এসব হুজুর টুজুর চিনি না। আপনি চিনেন,ভাবি?”
“জ্বী চিনি।আমি এক হুজুরের কথা জানি।উনি পারবেন।এই নেন ঠিকানা।”
হাসপাতালের জানালায় কার ছায়া দেখলাম।ভয়ে চিৎকার করে উঠলাম। বাবা তাড়াতাড়ি জানালা খুলল।দেখলাম কেউ নেই।বাবা বলল,”তোর মনের ভুল।কেউ নেই।পাঁচ তলার জানালায় কে উঠবে?”


সেদিন আমি এ ছায়া আরো কয়েকবার দেখেছি।কিন্তু কেউ ছিল না।
আজ বছর খানেক হল সে ঘটনার।বহু তাবিজ ঝুলিয়েছি গলায়।কিন্তু আজো দেখি সে ছায়া।

এভাবেই আমার কাছে আসার গল্প ভূত এফ এম এর গল্পে পরিণত হল।এখন আমি কি করব?

লেখকঃ Reza Rahman

 

আপনার গল্প আমাদের ইনবক্সে পাঠিয়ে দিন। প্রকাশ করা হবে, পেইজ ও ওয়েব সাইটে।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *