যে কারনে বাইকে অপরিচিত কাউকে তুলবেন না!

অপরিচিত কাউকে বাইকে তুলবেন না ,পুলিশ হোক আর যাই হোক। এতে আপনার জীবনটাই গরবাদ করে দিতে পারে।
আজকে পারসোনাল কাজে পল্টনের দিকে যাচ্ছিলাম, প্রচণ্ড জ্যামের কারনে ফার্মগেটে বসে ছিলাম প্রায় আধা ঘণ্টা। এমন সময় এক লোক এসে বলল “ভাই কোন দিকে যাবেন?” বললাম “পল্টন যাচ্ছি”।

“আমি পুলিশের লোক, আমাকে একটু সামনে নামায় দেন, আমিও ওইদিকে যাবো।” পুলিশের পোশাক না থাকলেও চুলের কাটিং দেখে কিছুটা পুলিশ পুলিশ মনে হল। স্বাভাবিক ভাবেই বললাম উঠেন। জ্যাম ছাড়ার পর বাইক টান দিলাম।

ঢাকার বাইকার

মোটামুটি জ্যামের মধ্যে টুকটুক করতে করতে কাওরান বাজার পর্যন্ত আসলাম। এই সময়ের মধ্যে আমি কি করি, কই থাকি, আয় রোজগার কেমন, দেশের পরিস্থিতি এই সব বিষয়ে নানান কথা সে জিজ্ঞেস করে ফেলে। সার্ক ফোয়ারা পার করার পর আমার হঠাৎ কিছুটা আনইজি লাগে। কারন লোকটা দুইবার আমার কোমরে বেল্টের ওই জায়গায় দুইবার হাত দিসে।

 

বাংলামোটর আবার জ্যামে বসে সে আমাকে কয়েকবার বলল “ভাই অনেক জ্যাম, শাহবাগ দিয়া না যাইয়া শেরাটনের ভি আই পি দিয়া যান। বারবার বলাতে আমার আরও সন্দেহ বাড়ল। আমি একটা কারন দেখাইয়া বললাম “ভাই আমি যাইতে পারবো না, আমার একটা জরুরি কাজ পইরা গেসে, আপনি এখানেই নেমে যান।” একটু গাইগুই করার পর আমি প্রায় জোর করে তাকে আমার বাইক থেকে নামায় দেই। নামায় দিয়ে কিছুদূর যেয়ে ভি আই পি রোডের মাথায় যেয়ে বাইক থামিয়ে সর্ব প্রথম কোমরে হাত দেই।

 

হাত দিয়ে আমি তো অবাক, দেখি বেল্ট এর চিপায় একটা ছোট কাগজের পোটলা। খুলে দেখি ভিতরে দুই দুইটা ইয়াবা। সাথে সাথেই সব পানির মত পরিস্কার হয়ে গেল। দ্রুত নিজের সারা বডি চেক করলাম, বাইকের যত চিপাচাপা আছে সব চেক করলাম। নাহ, আর কিছু নাই। ইয়াবা দুইটা ফেলে আবার বাইক টান দিলাম।

বাইকার

 

এবং যথারীতি সামনে একটা চেকপোস্ট। বাইক থামালো। কাগজ পত্র না দেখতে চেয়ে বলল গাড়ি থেকে নামেন, চেক হবে। মানুষিক ভাবে এর জন্য প্রস্তুত ছিলাম। শীতের কাপড় খুলে , জায়গা বেজায়গা হাতাইয়া চেক করল, বাইক চেক করল। কিছুই না পেয়ে কিছু উল্টাপাল্টা প্রশ্ন শুরু করসিল, সুযোগ দেই নাই।

 

পরিচিত কিছু পুলিশ ভাই ব্রাদার এর পরিচয় দিতেই বলল আপনি যান। তাদের নাম দেখার চেষ্টা করলাম,পারলাম না। কারই নেমপ্লেট নাই। আল্লাহর অশেষ রহমতে বিশাল একটা ফাড়া থেকে বাঁচলাম। বাইকার ভাইরা সাবধানে থাকবেন, অপরিচিত কাউকে বাইকে লিফট দেয়ার আগে সাবধান। আমি আজকে বেঁচে গেছি, আপনি হয়ত ফাঁদে পা দিয়েও দিতে পারেন। দিলেই মান সম্মান, টাকা পয়সা সব যাবে।

ঢাকায় বাইকিং

 

বিঃদ্রঃ পুলিশ অবশ্যই জনগনের বন্ধু। যে কোন জায়গায় তল্লাশিতে সাহায্য করুন। আমাদের নিরাপত্তার জন্যই তল্লাশি। তবে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। পুলিশ এর মত কাউকে সন্দেহ হলেও, তাড়াতাড়ি নিকটতবর্তী পুলিশের কিংবা থানার সহায়তা নিন।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *