জেনে নিন সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে?

সাবমেরিন হচ্ছে পানির নিচে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে এমন একটি নৌযানবিশেষ। সাধারণত সাবমেরিনে অনেক ক্রু অবস্থান করে থাকেন। অনেক পূর্বকাল থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে সাবমেরিন নির্মাণ করা হয়েছে এবং ঊনবিংশ শতকে বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীতে এর ব্যবহার অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে। দৈত্যস্বরুপ এই জিনিস কিভাবে পানির নিচে চলে তা নিয়ে রয়েছে মানুষের নানা কৌতুহল। চলুন, কৌতুহলী মনের খোরাক যোগাতে জেনে নিই সাবমেরিন বিষয়ে কিছু তথ্য।

 

১। অনেকে ভাবে  সাবমেরিন কিভাবে চলে পানিতে ভাসে ও আবার নিচে চলে যায়।  এটি মূলত কাজ করে প্রাচীন গ্রীক বিজ্ঞানী আর্কিমিডিসের “ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক থিওরী” উপর ভিত্তি করে।

 

সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে?
সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে?

 

২। ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক থিওরী হল কোন অদ্রব্য বস্তুকে পানিতে ডুবালে তা নিজের আয়তনের সমপরিমান পানি অপসারিত করবে। সোজা কথায় অপসারিত পানির ভরের থেকে পানিতে ডোবানো জিনিস্টি যদি হালকা হয় তবে তা ভেসে থাকতে পারে।

 

৩। উদাহরণঃ  খালি প্লাস্টিকের বোতলে যদি বাতাস ভরা হয় তখন কিন্ত বোলতটি পানিতে ভেসে থাকবে। ঠিক যদি আবার বোতলটিতে নতুন করে পানি ভর্তি করে দেওয়া হয় তবে সকল বাতাস বের হয়ে যাবে বোতলটি ভারী হয়ে গিয়ে পানিতে ডুবে যাবে। আবার যদি অর্ধেক বাতাস বোতলে রাখা হয় তবে বোতলটি অর্ধনিমজ্জিত অবস্থায় ভেসে থাকবে সেইম সূত্র অবলম্বন করে সাবমেরিন পরিচালিত হয়।

 

৪। একই উপায়ে   সাবমেরিনে কিছু ব্যালাস্ট ট্যাংকার থাকে এর ভিতরে পানি ও বাতাস ডুকানো হয় যন্ত্রের সাহায্যে।

 

৫।  যখন সাবমেরিন ডুবানোর দরকার পরে তখন এইসব ব্যালাস্ট ট্যাংকারে পানি ডুকিয়ে দেওয়া হয় ফলে সাবমেরিনটি ভারী হয়ে পানিতে ডুবে যায়।

 

৬। আবার যখন ভাসানোর দরকার পরে তখন ব্যালাস্ট ট্যাংকারের পানি গুলি বের করে যন্ত্রের সাহায্যে দ্রুত বাতাস ডুকতে থাকে ফলে সাবমেরিন পানির উপরে ভেসে উঠে।

সাবমেরিন ভেসে আছে
সাবমেরিন ভেসে আছে

 

৭। তবে এতে করে সাবমেরিনের ভিতরে চাপের কোন পরিবর্তন হয়না কারণ হল এতে উন্নত মানের ষ্টীল, টাইটেনিয়ামের মতন ধাতু ব্যবহার করা হয়।

 

৮।  এইসব ধাতুর কারণে শুধু সাবমেরিনের ভিতরে নয় এর বাইরেরও পানি প্রচণ্ড চাপ সহ্য করার মতন ক্ষমতা থাকে।

 

৯। সাবমেরিনের ভিতরে অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য যন্ত্রের সাহায্য নিয়ে অক্সিজেন তৈরি করা হয়।

 

১০।  পানির কত নিচে পর্যন্ত যেতে পারে সাবমেরিন? সাবমেরিনের একটা নিদিষ্ট রেঞ্জ থাকে সেই রেঞ্জের বাইরে বা এর নিচে গেলে সাবমেরিনের দুর্ঘটনা ঘটে যাবে।

 

১১।  বর্তমানের আধুনিক সাবমেরিন গুলি মানে সবচেয়ে বেশী চাপ নিতে সক্ষম মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিন।

 

প্রোফেলার সাবমেরিন এর
প্রোফেলার সাবমেরিন এর

 

১২। সাবমেরিন কতদিন পানির নিচে থাকবে তা নির্ভর করে মূলত কতদিনের জ্বালানি আছে ও ক্রুদের খাদ্য কি পরিমাণ রিজার্ভ আছে।

 

১৩। যদি ডিজেল সাবমেরিন হয় তবে ডিজেল নেয়ার জন্য কিছুদিন পরেই উপরে আসতে হবে।

 

১৪। আর যদি পারমাণবিক সাবমেরিন হয় তবে একবার জ্বালানি নিয়ে এটি একটানা ২৫ বছর বা আরও বেশী সময় পানির নিচে থাকতে পারবে কিন্ত ক্রুদের খাদ্যর জন্য উপরে আসতেই হবে।

 

১৫। কারণ পারমাণবিক সাবমেরিন নিজে ২৫ বছর বা আরও বেশীদিন পানির নিচে থাকতে পারবে কিন্ত ভিতরের মানুষের জন্য ৬ মাস পরে উপরে আসতেই হবে।

সাবমেরিন এর গঠন
সাবমেরিন এর গঠন

 

১৬। সাবমেরিনে ৬ মাসের বেশী খাবার মজুদ রাখা যায় না।

 

১৭। বর্তমানের সাবমেরিন গুলো প্রায় ৪৫০০ ফুট গভীর পর্যন্ত যেতে পারে! এগুলো ঘন্টায় ৪৯ থেকে ৫২ মেইল বেগে চলতে পারে!

 

১৮। বর্তমানের উল্লেখযোগ্য মিলিটারী সাবমেরিনের মধ্যে রয়েছে- cruise missile, nuclear warhead, ballistic missile submarines যেগুলো অত্যাধুনিক যুদ্ধ সাবমেরিন!

পানির নিচে সাবমেরিন
পানির নিচে সাবমেরিন

 

 

ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *