হাসির রাজা চার্লি চ্যাপলিন

চার্লি চ্যাপলিন এমন একজন অভিনেতা, যিনি কথা না বলেই জয় করেছিলেন কোটি মানুষের হৃদয়। চার্লি মানেই চলমান হাস্য। একের পর এক সুপার কমেডি ফিল্ম উপহার দিয়েছিলেন  তিনি । পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই মানুষের মুখে এক চিলতে হাসি। মৃত্যুর দীর্ঘ সময় পরেও সমানভাবে জনপ্রিয় এই অভিনেতা পৃথিবীর চলচ্চিত্রের পর্দায় শ্রেষ্ঠতম এই মূকাভিনয় প্রতিভা চার্লি চ্যাপলিন  সম্পর্কে জানতে চাইলে পড়ে ফেলুন এই আর্টিকেলটি।

 

সবার প্রিয় চার্লি চ্যাপলিন
সবার প্রিয় চার্লি চ্যাপলিন

 

১। চার্লির পুরো নাম চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন।

 

২। জন্ম ১৮৮৯ সালের ১৬ এপ্রিল, তবে তার জন্মস্থান কোথায় তা নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

৩। চার্লির স্ত্রী ও সন্তানের সংখ্যা যথাক্রমে ৪ ও ১১।

 

৪। চার্লির চোখের রঙ ছিল নীল। তার ছবি সাদাকালো হওয়ার কারণে বিষয়টি ধরা পড়তো না।

 

৫। একবার চার্লি চ্যাপলিনের অনুকরণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১ম ও ২য় যারা হলেন তাদের নাম ঘোষণা করা হল। আর মজার কথা হল চার্লি চ্যাপলিন এখানে ৩য় হন।

 

৬। পিতৃহারা চ্যাপলিন অবর্ণনীয় কষ্ট ও দারিদ্র্যের মধ্যে বড় হয়েছেন।

 

৭। শৈশব সম্পর্কে চার্লি চ্যাপলিন বলেন, যদি ভাগ্য সহায় না হতো, তাহলে আমি লন্ডনের পথে পথে চুরি করে বেড়াতাম। আর, বেওয়ারিশ লাশ হয়ে কবরে যেতে হতো।

চার্লি চ্যাপলিন দেখতে যেমন ছিলেন

 

 

৮। মা ও ভাইয়ের সঙ্গে দক্ষিণ লন্ডনের একটি শহরে বিভিন্ন বাড়িতে ভাড়া থাকতেন চ্যাপলিন। ভাড়া দিতে না পারায় প্রায়ই তাদের বাসা থেকে বের করে দেয়া হতো।

 

৯। এভাবে তাড়া খাওয়ার চেয়ে চ্যাপলিন পার্কের বেঞ্চিতে ঘুমাতেই বেশি পছন্দ করতেন।

 

১০। চার্লি একটি মুদির দোকানেও কিছুদিন কাজ করেছিলেন।

 

১১।  সেখানে কাজ চলে যাওয়ার পর কাজ নিয়েছিলেন একটি ডাক্তারখানায়।

 

১২। সেখানে কাজ চলে যাওয়ার পর লোকের বাড়িতে বাসন মাজার কাজে লেগে যান চার্লি।

 

১৩। এক কাচের কারখানা, রঙের দোকান, লোহার দোকান, ছাপাখানা, খেলনা কারখানা, কাঠ চেরাই কল, কাগজ বিক্রি ইত্যাদি নানা কাজের মধ্যে তিনি যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন।

 

১৪। অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে চার্লি চ্যাপলিনের যখন দেখা হল তখন আইনস্টাইন চ্যাপলিনকে বললেন – আপনাকে আমি যে কারণে খুব পছন্দ করি সেটা হল আপনার বিশ্বজনীন ভাষা।

 

১৫। আপনি যখন অভিনয় করেন, তখন আপনি হয়তো কোনো সংলাপই বলছেন না, কিন্তু সারা পৃথিবীর মানুষ ঠিক বুঝতে পারছে আপনি কী বোঝাতে চাচ্ছেন এবং তারা সে জন্য আপনাকে অসম্ভব ভালোও বাসে।

 

১৬। উত্তরে চার্লি চ্যাপলিন বললেন- ড. আইনস্টাইন, আপনাকে আমি তার চেয়েও বড় কারণে পছন্দ করি। আপনার থিওরি অব রিলেটিভিটিসহ অন্যান্য গবেষণার বিন্দুবিসর্গ কেউ বোঝে না, তবুও গোটা পৃথিবীর মানুষ আপনাকে শ্রদ্ধা করে।

অভিনয়ের সময়ে চার্লি চ্যাপলিন
অভিনয়ের সময়ে চার্লি চ্যাপলিন

 

 

১৭। তিনি তার শৈশব সম্পর্কে বলতেন, ‘আমার শৈশব ছিল অত্যন্ত কষ্টের। কিন্তু এখন তা আমার কাছে নস্টালজিয়া, অনেকটা স্বপ্নের মতো।’

 

১৮। তিনি একটা কথা প্রায়ই বলতেন যে বৃষ্টিতে হাঁটা খুবই ভালো। কারণ এ সময়ে কেউ তোমার চোখের জল দেখতে পাবে না।

 

১৯। মানুষের জীবন সম্পর্কে তিনি বলতেন, ‘মানুষের জীবন ক্লোজ শটে দেখলে ট্র্যাজেডি, কিন্তু লং শটে সেটাই কমেডি।

 

২০। নির্বাক চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি সবাক চলচ্চিত্র সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘শব্দ খুবই দুর্বল। ওটাকে ‘হাতি’র চেয়ে বড় কিছুই বলা যায় না।’

 

২১। আর এই কমেডিয়ানের শ্রেষ্ঠ উক্তি সম্ভবত এটাই- ‘না হেসে একটা দিন পার করা মানে একটা দিন নষ্ট করা।’

 

২২। তিনি একজন মিউজিক কম্পোজারও ছিলেন। কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ না নিয়েই তিনি তার নিজের কয়েকটি সিনেমায় মিউজিক কম্পোজ করেছেন।

 

২৩। বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের কভার পেজে প্রথম যে অভিনেতার ছবি ছাপা হয় সে চার্লি চ্যাপলিন।

মজার অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন
মজার অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন

 

২৪। জীবদ্দশায় চার্লি আইনস্টাইন ও মহাত্মা গান্ধীর সাথে দেখা করেছিলেন।

 

২৫। অনারারি অ্যাওয়ার্ড ছাড়া কম্পোজার হিসেবেও অস্কার জিতেছেন তিনি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এতবড় একজন অভিনেতাকে কখনো তাঁর অভিনয়ের জন্য অস্কার দেওয়া হয়নি।

 

২৬। ১৯৭৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর সবাইকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে ৮৮ বছর বয়সে সুইজারল্যান্ডে প্রয়াত হন এ মহান শিল্পী।

 

২৭। মৃত্যুর পর চার্লির দেহ চুরি হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল।

 

 >>> প্রেসিডেন্ট পুতিন এর মজার সব বিষয়গুলো জেনে নিন, অবাক না হয়ে পারবেন না!

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *